ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ধীরজ শেঠ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ধীরজ শেঠ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 1, 2026 ইং
ভারতের ৩১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ধীরজ শেঠ ছবির ক্যাপশন:

ভারতের সেনাবাহিনীর ৩১তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া তাঁর প্রথম বক্তব্যে তিনি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর, সমন্বিত এবং আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি ‘বিজয়’ (VIJAY) নামে একটি কৌশলগত কাঠামো উপস্থাপন করেছেন।

নতুন সেনাপ্রধান বলেন, দেশের সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আবেগের বিষয়। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, ‘কর্তব্য, সম্মান এবং সবার আগে দেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখেই তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

জেনারেল ধীরজ শেঠ দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী সেনাসদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাঁদের সাহস ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সেনাসদস্যদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধের ধরনও বদলে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

এই লক্ষ্যেই তিনি ‘VIJAY’ কাঠামোর পাঁচটি মূল দিক তুলে ধরেন। এর প্রথম অংশ V (Vigilance and Preparedness)-এর মাধ্যমে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

I (Innovation and Transformation) অংশে সামরিক প্রযুক্তি, কৌশল ও পরিচালন ব্যবস্থায় নতুন উদ্ভাবন এবং পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মতে, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা বিবেচনায় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা নিয়মিত উন্নত করতে হবে।

J (Jointness and Integration)-এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি বেসামরিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

A (Atmanirbharata) বা আত্মনির্ভরতার অংশে দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে বিদেশি সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবশেষে Y (Yodha First) নীতিতে সেনাসদস্যদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেনারেল শেঠ বলেন, কর্মরত সদস্য, অগ্নিবীর, অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং শহীদ পরিবারের সদস্য—সবাই সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, পেশাগত উন্নয়ন এবং কল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নতুন সেনাপ্রধান তাঁর পূর্বসূরি জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীসহ সাবেক সেনাপ্রধানদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তাঁদের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনী একটি শক্তিশালী ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। তাঁর ভাষায়, ‘বিজয়’ কাঠামো ভবিষ্যতে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
এনসিপি এখন জামায়াত নির্ভর, অস্তিত্ব সংকটে: সাবেক এনসিপি নেতা

এনসিপি এখন জামায়াত নির্ভর, অস্তিত্ব সংকটে: সাবেক এনসিপি নেতা