আফগানিস্তান পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এটি পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে। খবর অনুসারে আল জাজিরা, আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কোরের গণমাধ্যম দপ্তর বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আগের হামলার প্রতিক্রিয়ায় “ভারী সংঘর্ষ” শুরু হয়েছে।
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছেন, “পাকিস্তানের সামরিক মহলের ধারাবাহিক উসকানি ও সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাবে ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান ও স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণ শুরু হয়েছে।”
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৬১১ কিলোমিটার এবং এটি ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত। তবে আফগানিস্তান সরকার এই সীমান্তকে ঐতিহাসিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এর আগে রোববার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় অন্তত ৭০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষ এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক লোকজন নিহত হয়েছেন।
সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষের এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে।
আফগানিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে সীমান্ত লঙ্ঘন করছে এবং এ ধরনের উসকানিমূলক আক্রমণের জবাব দিতে তাদের পদক্ষেপ নিতেই হবে। তালেবান সরকার বলছে, সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় সেনা ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ডুরান্ড লাইন সংক্রান্ত বিতর্কের ইতিহাস বহু দশক ধরে চলছে। আফগানিস্তান সরকার কখনো এই সীমান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিরোধ ও সামরিক উত্তেজনা সময় সময় প্রকট আকার ধারণ করছে।
উভয় পক্ষই প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য সীমান্ত এলাকায় সেনা অবস্থান শক্ত করছে। সীমান্তের এই এলাকায় সংঘর্ষের খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও প্রতিবেশী দেশগুলো সতর্ক হয়েছে। সীমান্তের এই উত্তেজনা কিভাবে সামলানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিগত কয়েক মাসে সীমান্তবর্তী এলাকায় বারবার সামরিক সংঘর্ষ এবং বিমান হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। এ ধরনের পরিস্থিতি স্থানীয় বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের প্রাদেশিক প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয়ভাবে এলাকায় অবস্থান করছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তকে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে আবারও গুরুত্ব পেতে সহায়তা করেছে। দুই দেশের মধ্যে ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা কৌশলগত এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক