জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সহজ লক্ষ্য পেলেও ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। ১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম কয়েক ওভারেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
হারারের মাঠে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট করে টাইগাররা। নাহিদ রানা ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ২১ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। তাসকিন আহমেদও কার্যকর বোলিংয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন।
মাত্র ১৪২ রানের লক্ষ্য সামনে থাকায় বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যাটিং শুরুতেই পরিকল্পনায় ছন্দপতন ঘটে।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী ব্যাটার তামিম জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তার বিদায়ে শুরুতেই চাপে পড়ে দল।
প্রথম উইকেট হারানোর পর ক্রিজে এসে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল নাজমুল হাসান শান্তর ওপর। তবে তিনিও হতাশ করেন। মাত্র ৭ বল মোকাবিলা করে ৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান এই বাঁহাতি ব্যাটার। এতে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।
শান্তর বিদায়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরেকটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইনিংসের পরের ওভারেই আউট হন ওপেনার সৌম্য সরকার। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিন ব্যাটারকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে টাইগাররা।
স্বল্প লক্ষ্য হলেও শুরুতেই তিন উইকেট হারানোয় ম্যাচের গতি কিছুটা জিম্বাবুয়ের দিকে ঝুঁকে যায়। নতুন ব্যাটারদের দায়িত্ব পড়ে ইনিংস পুনর্গঠন করে দলকে নিরাপদে লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি জিম্বাবুয়ে। নাহিদ রানার গতিময় বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৭ ওভারে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। শেষদিকে নিম্নক্রমের ব্যাটারদের কিছু প্রতিরোধে তারা দেড়শ রানের কাছাকাছি যেতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সেই দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ব্যাটিংয়েও বজায় রাখা। কিন্তু শুরুর ব্যাটিং বিপর্যয়ে ম্যাচটি অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন বাংলাদেশের আশা নির্ভর করছে মধ্যক্রমের ব্যাটারদের ওপর। তারা যদি দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেন, তবে স্বল্প লক্ষ্য অতিক্রম করে সিরিজে জয় দিয়ে শুরু করার সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে জিম্বাবুয়ের বোলাররা শুরুতেই যে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে, তা ম্যাচকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক