দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও কার্যকর, টেকসই এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে উদ্যোক্তা উন্নয়নের পথ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কেবল বাজেট বৃদ্ধি নয়, বিদ্যমান সম্পদের কার্যকর ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, দেশে দক্ষ উদ্যোক্তা, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বেসরকারি হাসপাতাল এবং শক্তিশালী ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা রয়েছে। এসব সক্ষমতাকে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে আরও সমন্বিতভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বাজেটে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন (এপিআই) খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা এবং পৃথক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি উৎপাদনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশ জনগণকে নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হয়। এ ব্যয় কমিয়ে এনে সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা, উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও সহজে ও সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে।
কসমিক ডেস্ক