হরমুজ এড়িয়ে ওমানের জলসীমায় নতুন নৌপথ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

হরমুজ এড়িয়ে ওমানের জলসীমায় নতুন নৌপথ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 4, 2026 ইং
হরমুজ এড়িয়ে ওমানের জলসীমায় নতুন নৌপথ ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন একটি বিকল্প পথের সন্ধান মিলেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় একটি কার্গো জাহাজসহ অন্তত চারটি বড় জাহাজ এই নতুন রুট ব্যবহার করে সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে।

ভারতের গণমাধ্যম NDTV-এর ডেটাফাই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআইএস (অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম) ও রিমোট সেন্সিং ডেটার ভিত্তিতে এই নতুন রুট শনাক্ত করা হয়েছে। এই পথটি প্রচলিত আন্তর্জাতিক রুট নয়, এমনকি ইরান সম্প্রতি যে বিকল্প পথ চালু করেছিল, সেটিও নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন পথটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এড়িয়ে ওমান-এর জলসীমার ভেতর দিয়ে গেছে। এতে করে জাহাজগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে নিরাপদে চলাচলের চেষ্টা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর মধ্যে ছিল মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী দুটি তেলবাহী জাহাজ—হাবরুত ও ঢালকুট। এছাড়া পানামার পতাকাবাহী সোহার নামের একটি এলএনজি জাহাজ এবং ভারতের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজও এই পথ অনুসরণ করে।

জাহাজগুলো প্রথমে রাস আল খাইমাহ-এর কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ওমানের জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর মুসান্দাম উপদ্বীপ-এর কাছে গিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানানোর সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়, যা সামুদ্রিক চলাচলে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল এসব জাহাজকে মাস্কাট উপকূল থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে দেখা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তারা সফলভাবে বিকল্প পথ ব্যবহার করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে গেছে।

সামুদ্রিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান TankerTrackers.com জানিয়েছে, ঢালকুট ও হাবরুত জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে সৌদি ও আমিরাতি অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছিল। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে সোহার নামের এলএনজি জাহাজটি ২১ মার্চ আল হামরিয়াহ বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। যদিও এতে সম্পূর্ণ কতটুকু পণ্য ছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে এআইএস তথ্য অনুযায়ী এটি আংশিক বোঝাই ছিল।

এই তিনটি জাহাজের পেছনে ছিল ভারতের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ, যার নাম এমএসভি কিউবা এমএনভি ২১৮৩। এটি ৩১ মার্চ দুবাই থেকে যাত্রা শুরু করে এবং সর্বশেষ অবস্থান পাওয়া গেছে ওমানের দিব্বা বন্দরের কাছাকাছি সমুদ্রে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন পথ ব্যবহারের পেছনে বড় কারণ হলো হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নিয়ন্ত্রণ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান জাহাজ চলাচলে কঠোর নজরদারি শুরু করে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

এদিকে ইরান তাদের নিয়ন্ত্রিত রুটে জাহাজ চলাচলের জন্য আলাদা অনুমতি ব্যবস্থা চালু করে। কেশম ও লারাক দ্বীপের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে হয় এবং প্রতিটি জাহাজের জন্য আলাদা অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

খবরে আরও জানা গেছে, জাহাজগুলো বহন করা প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টোল নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, নতুন এই বিকল্প রুট বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির, এবং ভবিষ্যতে এই পথ কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করছে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কর্মকর্তা অনুপস্থিত, ভূমি প্রতিমন্ত্রী আধাঘণ্টা অপেক্ষা

কর্মকর্তা অনুপস্থিত, ভূমি প্রতিমন্ত্রী আধাঘণ্টা অপেক্ষা