ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছেন, এমন পদক্ষেপ ইরানের বিক্ষোভকারীদের আরও সাহস জোগাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যাই করুক না কেন, তার লক্ষ্য হওয়া উচিত ইরানের বিক্ষোভকারীদের মনোবল বাড়ানো এবং শাসকগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, “আমরা যাই করি না কেন, সেটার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণকে সাহস জোগানো এবং শাসকগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো।”
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “আমি যদি আপনার জায়গায় থাকতাম, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, তাহলে জনগণকে যারা হত্যা করছে, সেই নেতৃত্বকেই হত্যা করতাম। এটাকে থামাতেই হবে।” গ্রাহামের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্রাহাম দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে শক্ত অবস্থান নিলে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। তার ভাষায়, “যদি এটি ভালোভাবে শেষ হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নেমে আসবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হবে। হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। ইসরাইল ও সৌদি আরব শান্তির পথে এগোবে। এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি নতুন দিনের সূচনা।”
এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সহায়তা’ আসছে বলে ইঙ্গিত দেন। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহামের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও সংবেদনশীল প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক