পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সবুজায়ন নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরাসরি উপস্থিত থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশের ময়লা অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
রোববার (১৪ জুন) সকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল গোলচত্বর এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এলাকার সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা অপসারণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, একটি সুস্থ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে এখন থেকেই বেশি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, বায়ু দূষণ কমায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারজানুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বৃক্ষরোপণ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নয়, বরং এটি জনসচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তারা মনে করেন, এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসবে।
তারা আরও বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের বিকল্প নেই। শহর ও গ্রামের সড়কগুলো পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ সুন্দর হবে, অন্যদিকে মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে ময়লা জমে থাকার কারণে পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হচ্ছিল। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।
একই সঙ্গে তারা এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনার দাবি জানান। তাদের মতে, শুধু একদিনের উদ্যোগে নয়, বরং নিয়মিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালে রূপগঞ্জের পরিবেশ আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, ময়লা অপসারণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি রূপগঞ্জবাসীর জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক