কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর সময় বদলেছে, বদলেছে ফুটবলের বাস্তবতাও। তবে একটি বিষয় বদলায়নি—বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার প্রতি প্রত্যাশা। ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে লিওনেল স্কালোনির দল, আর তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া।
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা নিজেদের আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত দল হিসেবেই তুলে ধরেছে। আক্রমণ, মিডফিল্ড ও রক্ষণ—তিন বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখা গেছে। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে মিডফিল্ড। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ত্রয়ী বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম কার্যকর মিডফিল্ড ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের সঙ্গে বিকল্প হিসেবে আছেন জিওভানি লো সেলসো ও এজেকুয়েল পালাসিওসের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার।
গোলবারের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার বড় ভরসা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার পারফরম্যান্স এবং চাপ সামলানোর দক্ষতা দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। অন্যদিকে আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ ও জুলিয়ান আলভারেজের উপস্থিতি প্রতিপক্ষ রক্ষণকে সবসময় চাপে রাখে।
বর্তমান আর্জেন্টিনার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো দলটি আর শুধু একজন ফুটবলারের ওপর নির্ভরশীল নয়। মেসি এখনও দলের সবচেয়ে বড় তারকা হলেও ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মতো একাধিক খেলোয়াড় স্কোয়াডে রয়েছেন। ফলে প্রতিপক্ষের জন্য আর্জেন্টিনাকে থামানো আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
কোচ লিওনেল স্কালোনির কৌশলগত নমনীয়তাও দলের অন্যতম বড় শক্তি। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনি সহজেই ফরমেশন পরিবর্তন করতে পারেন। ৪-৩-৩ থেকে ৪-৪-২ ডায়মন্ড কিংবা আরও রক্ষণাত্মক কাঠামোয় রূপান্তর করার সক্ষমতা আর্জেন্টিনাকে কৌশলগত সুবিধা দেয়।
তবে সবকিছুর পরও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির নেতৃত্ব মূল্যবান হলেও দ্রুতগতির আক্রমণভাগের বিপক্ষে তার গতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। এজন্য ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
স্কোয়াডের গভীরতাও আর্জেন্টিনার বড় সম্পদ। নিকো পাজ, থিয়াগো আলমাদা ও জুলিয়ানো সিমিওনের মতো তরুণ ফুটবলাররা যেকোনো সময় ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে তাদের গতি ও উদ্যম প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে আলজেরিয়া সহজ প্রতিপক্ষ নয়। আফ্রিকান দলগুলো সাধারণত শারীরিক সক্ষমতা, গতি এবং কাউন্টার অ্যাটাকে বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ফলে আর্জেন্টিনাকে শুরু থেকেই মনোযোগী থাকতে হবে। কোনো ধরনের আত্মতুষ্টি বিশ্বকাপের মতো আসরে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
তবুও সামগ্রিক শক্তি, অভিজ্ঞতা, দলগত বোঝাপড়া এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় আর্জেন্টিনাই ম্যাচটির স্পষ্ট ফেভারিট। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের লক্ষ্য হবে জয় দিয়ে শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু করা। ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা হলেও কাগজে-কলমে হিসাব বলছে, ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মুখে হাসি থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
কসমিক ডেস্ক