রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক অটোরিকশা চালকের দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ভয়াবহ একটি অপরাধ থেকে রক্ষা পেয়েছে চার বছরের একটি শিশু। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শাহ পরান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহ পরান শিশুটিকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে নিয়ে যায়। শিশুটির পরিবার এবং অভিযুক্ত একই এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন, যা তাকে সহজেই শিশুটির কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেয়।
শিশুটির মা-বাবা বাসায় না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত তাকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তারা একটি অটোরিকশায় করে ঝিলমিল এলাকায় যায়। এ সময় অটোরিকশা চালকের কাছে যুবকটির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। তার কথাবার্তা ও শিশুটির প্রতি আচরণ দেখে তিনি সতর্ক হয়ে ওঠেন।
অটোরিকশা চালক মো. রাকাত হোসেন (৩৮) জানান, তিনি যাত্রী হিসেবে ওই যুবক ও শিশুটিকে বহন করছিলেন। যাত্রাপথেই তার সন্দেহ হয়। তিনি বলেন, “তাদের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় আমি বিষয়টি লক্ষ্য করতে থাকি। পরে ঝিলমিল এলাকায় নামিয়ে দিয়ে কিছুটা দূরে অবস্থান নিয়ে নজর রাখি।”
তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পর দেখেন যুবকটি শিশুটিকে নিয়ে একটি নির্জন ঝোপের দিকে যাচ্ছে। এরপর সেখান থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে তিনি দ্রুত র্যাব-১০-এর একটি টহল দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝোপের ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শাহ পরানকে আটক করে। এ ঘটনায় শিশুটি বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা অটোরিকশা চালকের মানবিকতা ও সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, তার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না থাকলে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারত।
এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত র্যাবের হেফাজতে রয়েছে। তাকে থানায় হস্তান্তর করা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এ ধরনের ঘটনায় সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতি দেখলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অনেক সময় বড় ধরনের অপরাধ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজের প্রতিটি স্তরে এ ধরনের সতর্কতা বৃদ্ধি পেলে শিশুদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক