আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন চিকিৎসক ও সমাজকর্মী ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘ফুটবল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী এই প্রার্থী বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি ঢাকা-৯ এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা—গ্যাস ও পানির সংকট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা, মাদক ও সন্ত্রাস, শিক্ষার অব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থানের ঘাটতি—চিহ্নিত করে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা-৯-এর অবহেলার দিন শেষ করতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ে ভোটারদের ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট চান।
নিজেকে এলাকার সন্তান পরিচয় দিয়ে তাসনিম জারা বলেন, তিনি পেশাদার রাজনীতিবিদ নন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ রাজনীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তার ভাষায়, এই ইশতেহার কোনো গতানুগতিক প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়; বরং ভোটারদের সঙ্গে তার একটি চুক্তি, যেখানে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কৌশল নির্দিষ্ট করা আছে।
ইশতেহারের প্রথম অংশে তিনি গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা তুলে ধরে ‘সেবা না দিলে বিল নয়’ নীতির জন্য সংসদে আইন প্রস্তাবের কথা বলেন। গ্যাস সংকটের কারণে এলপিজি সিন্ডিকেট ভাঙা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং রাস্তা কাটার কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে তিনি মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সচল রাখার কথা বলেন। পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ‘মিনি হাসপাতাল’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সারা বছরব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থায়ী মশা নিধন স্কোয়াড গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। নারীস্বাস্থ্য সেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তাসনিম জারা বলেন, মাদক সিন্ডিকেট উচ্ছেদ করে এলাকাকে নিরাপদ করতে ‘নিরাপদ করিডোর’ চালু করা হবে। স্কুল, কলেজ ও কর্মস্থলমুখী রাস্তায় সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে তার ইশতেহারে।
শিক্ষা খাতে তিনি ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ, এমপির সুপারিশবিহীন স্বচ্ছ ভর্তি ব্যবস্থা এবং স্কুলগুলোতে আধুনিক বিজ্ঞান ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরির অঙ্গীকার করেন। মানসিক স্বাস্থ্য, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
অর্থনীতি ও জীবিকার ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা-৯’ তহবিল, কর্মজীবী মায়েদের জন্য কমিউনিটি ডে-কেয়ার সেন্টার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তাসনিম জারা। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও অনলাইন বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে ইশতেহারে।
সবশেষে এমপির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এলাকায় স্থায়ী কার্যালয়, ডিজিটাল অভিযোগ ড্যাশবোর্ড এবং প্রটোকলবিহীন নাগরিক সেবার অঙ্গীকার করেন তিনি। তাসনিম জারা বলেন, তিনি ‘অতিথি পাখি’ নন—ভোটের পরও এলাকাবাসীর পাশে থাকাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
ইশতেহার প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-৯ আসনে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নয়, সমস্যা ও সমাধানভিত্তিক রাজনীতির বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।