সাম্প্রতিক সময়ের দুটি পৃথক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে বাড়তি সংবেদনশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগে একধরনের উত্তাপ তৈরি করেছে, যদিও উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার বার্তা দিচ্ছে।
একদিকে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা নতুন করে সামনে আসা এবং অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ভারতে অবস্থানের তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন সংগঠন ও প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিবাদী বক্তব্য ও কর্মসূচি দেখা গেছে, যা কূটনৈতিক পরিমণ্ডলেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই প্রেক্ষাপটে ১৪ ডিসেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ ও অবস্থান জানানো হয়। এর কয়েক দিনের ব্যবধানে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে এবং সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
কূটনৈতিক এই পালটা তৎপরতা সম্পর্কে সাবেক কূটনীতিকরা মনে করছেন, এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কে অস্বাভাবিক নয়। তাদের মতে, দুই দেশই নিজেদের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে অবস্থান নিচ্ছে। তবে প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংযম না থাকলে পারস্পরিক আস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে বাইরের কোনো পরামর্শ প্রয়োজন নেই। তিনি জানান, সরকার একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনের প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বয় ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। কোনো অপরাধী যেন সীমান্ত অতিক্রম করে পালাতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মত দেন।
সার্বিকভাবে বিশ্লেষকদের অভিমত, বর্তমান টানাপোড়েন সাময়িক হতে পারে, তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নির্ভর করবে আগামী দিনের কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক বাস্তবতা এবং উভয় পক্ষের সংযত ভূমিকার ওপর।
কসমিক ডেস্ক