বাজারে এলপিজির ভয়াবহ কারসাজি, বিপাকে ভোক্তারা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাজারে এলপিজির ভয়াবহ কারসাজি, বিপাকে ভোক্তারা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 3, 2026 ইং
বাজারে এলপিজির ভয়াবহ কারসাজি, বিপাকে ভোক্তারা ছবির ক্যাপশন:

হঠাৎ করেই লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের বাজারে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত দামের তুলনায় কয়েক শ টাকা বেশি দিয়েও অনেক এলাকায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক দিন আগেও যেখানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছিল এক হাজার ২৫৩ টাকায়, সেখানে গতকাল শুক্রবার তা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকায়। তবু অনেক দোকানে সিলিন্ডার ছিল না।

রাজধানীর শনির আখড়ার গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান শুক্রবার সকালে গ্যাস কিনতে গিয়ে দেখেন, পরিচিত দোকান বন্ধ। দোকানদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়—গ্যাস নেই। পরে পুরো এলাকা ঘুরেও সিলিন্ডার না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে রান্না করা খাবার কিনে বাসায় ফেরেন তিনি। মেহেদী হাসান বলেন, “এত বেশি দাম দিয়েও গ্যাস না পাওয়ার অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।”

ডেমরার সারুলিয়া এলাকার বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান জানান, সকালে ১ হাজার ৮০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনলেও দুপুরে সেটি ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখেছেন। বিকেলে আরও বেশি দাম চেয়েও অনেকে গ্যাস পাননি। দোকানদাররা সরবরাহ সংকটের কথা বলে দায় এড়াচ্ছেন।

শুধু এলপিজি নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাইনের গ্যাসেও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শনির আখড়ার পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বলেন, “চার দিন ধরে লাইনে গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।” মতিঝিলের মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মম জানান, দিনে সামান্য সময় গ্যাস এলেও চুলায় আগুন টেকে না, ফলে রান্না প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এই পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) তদারকির ঘাটতিকে দায়ী করছে। ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতারা বাজারে বড় ধরনের কারসাজি করছেন। নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি দামে বিক্রি স্পষ্টভাবে আইন লঙ্ঘন।

এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কিছু কোম্পানি নিজেরাই বাড়তি দামে সিলিন্ডার ছাড়ছে, যা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

এদিকে এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানায়, শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বাড়ার পাশাপাশি জাহাজ সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় নিয়মিত পরিবহনের বহু জাহাজ বন্ধ থাকায় ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

২০২১ সাল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত ছিল এক হাজার ২৫৩ টাকা। বিইআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি নজরে আসায় এলপিজি ব্যবসায়ীদের সংগঠন লোয়াবকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আমদানিকারকদের বাড়তি খরচের যৌক্তিক প্রমাণ পেলে কমিশন নতুন দাম বিবেচনা করবে। তবে তার আগে বাড়তি দামে বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকতে হুইপের

বুধবার সরকারি দলের সংসদীয় সভা, এমপিদের উপস্থিত থাকতে হুইপের