ঢাকার ধামরাইয়ে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় এক দম্পতি দগ্ধ হয়েছেন। রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুন ধরানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কৃষাণ নগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং ভবনের একটি অংশেও ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দগ্ধ দুইজন হলেন বাদশা মিয়া (৫৫) এবং তার স্ত্রী সুমনা বাদশা (৪৫)। দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুমনা বাদশার শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে বাদশা মিয়ার শরীরের প্রায় ১৫ শতাংশ অংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধদের মধ্যে সুমনার অবস্থা বেশি গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে কৃষাণ নগরের বাদশা মিয়ার দোতলা ভবনের নিচতলায়। বিস্ফোরণের ফলে কক্ষটির জানালার গ্লাস ভেঙে যায় এবং ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
দগ্ধদের আত্মীয় সুজন মিয়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অবস্থান করে ঘটনার বিষয়ে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিতাস লাইনের গ্যাসের চুলা ভুলবশত চালু অবস্থায় ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে চুলা চালু থাকায় ঘরের ভেতরে ধীরে ধীরে গ্যাস জমে যায়। তবে তখন কেউ বিষয়টি খেয়াল করেননি।
মঙ্গলবার রাতে বাদশা মিয়া তার স্ত্রী সুমনার কাছে চা খাওয়ার কথা বলেন। এরপর সুমনা রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের পানি গরম করতে চুলায় আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। ঠিক সেই সময় ঘরে জমে থাকা গ্যাসের কারণে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তাপে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দগ্ধ হন।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আল আমীন খান এ বিষয়ে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইনের চুলার চাবি চালু ছিল। ফলে ঘরের ভেতরে ধীরে ধীরে গ্যাস জমে যায়। পরে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং এতে দুজন দগ্ধ হন।
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের ফলে কক্ষের জানালার গ্লাস ভেঙে যায় এবং ভবনের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি।
এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আহত হয়েছেন সুমনা বাদশা। তার শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। অন্যদিকে বাদশা মিয়ার একটি হাত পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্যাস লাইন ব্যবহারে সতর্ক থাকার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে চুলা চালু থাকলে ঘরে গ্যাস জমে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বর্তমানে দগ্ধ দুইজন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
কসমিক ডেস্ক