ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট গণভোটের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে মঙ্গলবার ভোরে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর নির্বাচনী এলাকায় আর কোনো ধরনের মিছিল, সভা বা মাইকিংয়ের সুযোগ নেই। ফলে সোমবার রাতেই প্রার্থীরা তাদের শেষ নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।
আগামী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে, যা বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। ভোট উপলক্ষে বুধবার ও ভোটের দিন বৃহস্পতিবার সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। অংশ নিচ্ছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী রয়েছেন দুই হাজারের বেশি, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজারের বেশি, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ বুথে ভোটগ্রহণ হবে। নারী ও পুরুষ ভোটারদের জন্য পৃথক বুথের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা বিভাগে কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, আর গাজীপুর-২ আসনকে ধরা হচ্ছে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা।
এবার ভোটারদের দুটি আলাদা ব্যালট পেপার দেওয়া হবে। একটি ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট এবং অন্যটিতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন সংক্রান্ত ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাবের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। উপকূলীয় ও সীমান্ত এলাকায় বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন ও বিশেষ টিম ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণকে সুশৃঙ্খল রাখতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়ানোর চেষ্টা করছে প্রশাসন।
শেষ দিনের প্রচারণায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় দলগুলোর নেতারা পথসভা, গণসংযোগ ও জনসভায় অংশ নেন। একই সঙ্গে জেলা ও বিভাগ পর্যায়েও প্রার্থীদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও শান্তিপূর্ণ প্রচার, কোথাও উত্তেজনা থাকলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রচার শেষ হওয়ায় এখন নির্বাচনী মাঠ দৃশ্যত নীরব। তবে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা, হিসাব-নিকাশ আর প্রত্যাশা থেমে নেই। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন ভোটগ্রহণের দিনের দিকে তাকিয়ে। দেশজুড়ে অপেক্ষা—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ব্যালটের মাধ্যমে।
কসমিক ডেস্ক