প্রভাবশালীদের চাঁদার হাটে পরিণত কাওরান বাজার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রভাবশালীদের চাঁদার হাটে পরিণত কাওরান বাজার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 14, 2026 ইং
প্রভাবশালীদের চাঁদার হাটে পরিণত কাওরান বাজার ছবির ক্যাপশন:
ad728

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কাওরান বাজার যেন পরিণত হয়েছে প্রভাবশালী চক্রের চাঁদার হাটে। চাঁদাবাজি, দখলদারি ও আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় প্রায়ই এখানে ঘটে সহিংসতা, এমনকি হত্যাকাণ্ডও। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিদিন কাওরান বাজার থেকে গড়ে অন্তত ১৭ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়, যা মাসে দাঁড়ায় প্রায় ৫ কোটি টাকায়।

এই বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুচ্ছাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের প্রভাব কমলেও চাঁদাবাজির চক্র ভাঙেনি। বরং নতুন করে আরেকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে এই চাঁদার নিয়ন্ত্রণ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাওরান বাজারের একেকটি অংশ একেকটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকা এককভাবে দখলে নিতে মরিয়া ছিল কয়েকজন প্রভাবশালী। সেই দৌড়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান মুচ্ছাব্বির। কাওরান বাজার ছাড়াও পান্থপথের ফুটপাত, তেজগাঁওয়ের কাজীপাড়া এলাকার গ্যারেজসহ একাধিক জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে ওই চক্রের তীব্র দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

মুচ্ছাব্বির স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সরাসরি সংঘাতে যেতে পারেনি প্রভাবশালী মহল। ফলে ঠান্ডা মাথায় ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। গত ৭ জানুয়ারি রাতে কাওরান বাজার সংলগ্ন এলাকায় গুলিতে নিহত হন মুচ্ছাব্বির। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন ভ্যানচালক সমিতির নেতা আবু সুফিয়ান ওরফে মাসুদ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতোমধ্যে শুটারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি।

অনুসন্ধানে চাঁদাবাজির বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে। মাছ বাজার, সবজি বাজার, মুরগির বাজার, পিকআপ ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড—প্রায় প্রতিটি সেক্টর থেকেই আলাদা আলাদা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। শুধু সবজি বাজার থেকেই প্রতিদিন ওঠে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা। মাছ বাজার থেকে আসে তিন লাখ টাকার বেশি। মুরগির বাজারে প্রতি কেজিতে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায় করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চাঁদাবাজি বন্ধ হবে—এমন আশায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। আগে যেখানে দিনে ৫০ টাকা দিতে হতো, এখন দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা। নতুন মুখ এসেছে, কিন্তু পদ্ধতি বদলায়নি।

তেজগাঁও থানা বিএনপির পক্ষ থেকে করা তদন্তেও কাওরান বাজারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারই মুচ্ছাব্বির হত্যার মূল কারণ। হত্যাকাণ্ডের পর চাঁদাবাজরা আত্মগোপনে রয়েছে এবং তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কেউ কেউ সবকিছু অস্বীকার করেছেন। কেউ ফোন ধরেননি, কেউ দাবি করেছেন রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে তাঁদের নাম জড়ানো হচ্ছে।

তবে অনুসন্ধান বলছে, কাওরান বাজারে চাঁদাবাজির এই কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট ও সুসংগঠিত। প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া ছাড়া এত বড় অঙ্কের অবৈধ অর্থের লেনদেন সম্ভব নয়। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই চাঁদার রাজনীতি কবে থামবে, আর রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কবে মুক্ত হবে চাঁদাবাজির দখল থেকে?


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
টেকনাফে ৬ কোটি টাকার মাদক ও অস্ত্র জব্দ, আটক ২

টেকনাফে ৬ কোটি টাকার মাদক ও অস্ত্র জব্দ, আটক ২