ঝিনাইদহে বাসে আগুন ও পাম্প ভাঙচুর: ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা জেলে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঝিনাইদহে বাসে আগুন ও পাম্প ভাঙচুর: ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা জেলে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 10, 2026 ইং
ঝিনাইদহে বাসে আগুন ও পাম্প ভাঙচুর: ছাত্র আন্দোলনের ৭ নেতা জেলে ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহে পেট্রল পাম্প ভাঙচুর ও তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাতজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে তাদের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মোখলেছুর রহমান জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কোর্ট পুলিশের সদস্য মো. মোক্তার হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর। এছাড়া ‘দ্য রেড জুলাই’ সংগঠনের আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান এবং রাসেলকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, বাস মালিকদের পক্ষে সাইফ নোমান এবং সৃজনী ফিলিং স্টেশনের পক্ষে শামসুল কবীর মিলন বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। দুপুর ১২টার দিকে এসব মামলা করা হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় তাজ ফিলিং স্টেশনে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই দিন পেট্রল নিতে গিয়ে পাম্প কর্মচারীদের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পেট্রল পাম্পের তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে।

নীরবের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রথমে তাজ ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতির কারণে তারা সেখানে বড় ধরনের ভাঙচুর করতে পারেননি।

এরপর তারা একই মালিকানাধীন আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনার পর রাত প্রায় সোয়া তিনটার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েল পরিবহনের দুটি বাস এবং জে লাইন পরিবহনের একটি বাস ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পেট্রল পাম্প ভাঙচুর এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং মোবাইল ট্র্যাকিং ব্যবহারের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় এবং মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা এ বিষয়ে বলেছেন, প্রতিটি অপরাধ আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই নির্দোষ হতে পারেন বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের সময় আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পায় এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।

এই ঘটনার পর ঝিনাইদহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বের করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয় : সাঈদ আল নোমান

উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয় : সাঈদ আল নোমান