রাজধানীতে শুরু হয়েছে আইনজীবীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন। ঢাকা আইনজীবী সমিতি-এর ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। একই নিয়মে বৃহস্পতিবারও দ্বিতীয় দিনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই নির্বাচনে মোট ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এটি দেশের অন্যতম বড় পেশাজীবী নির্বাচনের একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দিনের ভোট শেষে শুক্রবার ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সদস্য পদে ভোট গণনা মেশিনে এবং সম্পাদকীয় পদে হাতে গণনা করা হবে।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি বড় প্যানেলের মধ্যে।
একদিকে রয়েছে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল’ (নীল প্যানেল)। অন্যদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ‘আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’ (সবুজ প্যানেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও এই প্যানেলের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।
অন্যদিকে সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের সঙ্গেও রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল।
দুটি প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও কয়েকজন বিভিন্ন পদে নির্বাচন করছেন, যা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই আইনজীবীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
এই নির্বাচন শুধু একটি সংগঠনের নেতৃত্ব নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের আইনজীবী সমাজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হয়।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সেই কমিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৪ সালের আগস্টে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যারা পরবর্তীতে বর্তমান নির্বাচনের আয়োজন করে।
সব মিলিয়ে, দুই দিনব্যাপী এই নির্বাচন শেষে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে, যা আগামী এক বছরের জন্য ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
কসমিক ডেস্ক