মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় চোর সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় সাগর (২৪) ও সানারুল (১৬) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাতঘরিয়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে সাতঘরিয়া মাঠ এলাকায় বিদ্যুতের তার চুরির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে এলাকাবাসীর একাংশ তাদের গণপিটুনি দেয়।
নিহত সাগর ও সানারুল গোয়ালী মান্দ্রা বেদে সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাতেই তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়দের মাধ্যমে হেফাজতে রাখা হয়। বুধবার সকালে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
লৌহজং থানা সূত্রে জানা যায়, ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে গুরুতর আহত দুই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাদের মৃত্যু হয়।
লৌহজং থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। গণপিটুনির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এলাকাবাসীর একটি সূত্র দাবি করেছে, চুরি করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গণপিটুনির ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা উচিত। অন্যথায় এমন ঘটনায় প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক