এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় আসার পেছনে ১৯৭২ সালের সংবিধানের চেয়ে ২০২৪ সালের ‘জুলাই বিপ্লব’-এর অবদানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এই গণঅভ্যুত্থানই সরকারের প্রধান বৈধতার উৎস।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান-এ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারকে নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ তার বক্তব্যে বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান নয়, ২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই বিপ্লবই আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আপনি শুধুমাত্র জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, সংবিধানের কারণে নয়।”
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১৪০০ মানুষের প্রাণহানি এবং হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়ার মাধ্যমে যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, সেটিই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যদি সরকার বারবার ১৯৭২ সালের সংবিধানের দোহাই দেয়, তাহলে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র না থাকার বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, এতে রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
ফুয়াদ আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের জনরায়। তিনি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই সনদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, নচেৎ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করলে তার পরিণতি ভালো হয় না। তাই দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম, মাওলানা মামুনুল হক এবং অলি আহমদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বক্তারা সবাই জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্য নতুন করে সংবিধান, গণআন্দোলন এবং রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনীতিতে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ব্যারিস্টার ফুয়াদের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে সংবিধান বনাম গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
কসমিক ডেস্ক