বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এখন বড় ধরনের সংস্কার ও নিরাপত্তা আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এবং দাপ্তরিক কার্যালয় হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক ভবনকে আরও নিরাপদ ও আধুনিক করে তুলতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের ১৬০০ পেনসিলভানিয়া এভিনিউ-এ অবস্থিত হোয়াইট হাউসের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৭৯২ সালে এবং শেষ হয় ১৮০০ সালে। এরপর থেকে জন অ্যাডামসসহ প্রায় সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই ভবনকে সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভবনটিতে একাধিকবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের সৌন্দর্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেন। তার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইস্ট উইং আধুনিকায়ন, প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের নতুন গ্লাস বলরুম নির্মাণ, রোজ গার্ডেন সংস্কার এবং নতুন সোনালি সাইনেজ সংযোজনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে চলমান সর্বশেষ সংস্কারকাজের মূল লক্ষ্য সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়; বরং নিরাপত্তা জোরদার। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের সুপারিশে হোয়াইট হাউসের উত্তর দিকের প্রধান প্রবেশপথকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় প্রবেশপথের স্তম্ভ, পাথরের কাঠামো এবং বাইরের অংশ সংস্কার ও নতুন করে রং করা হচ্ছে।
সংস্কারকাজ সহজ করতে প্রবেশপথের সামনের অংশে অস্থায়ী মাচা ও সুরক্ষা কাঠামো স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কাজ শেষ হবে। অন্যদিকে সাধারণ রং ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আরও আগেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে নতুন একটি হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। পাশাপাশি উত্তর পাশের লাফায়েত পার্ক এলাকায় নতুন স্থায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের সময় নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, একাধিক হামলার চেষ্টা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা অবকাঠামো আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সেই বিবেচনায় বর্তমান সংস্কার প্রকল্পকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে
কসমিক ডেস্ক