নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আবার সঠিক ধারায় ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তিনি রূপক অর্থে মন্তব্য করেন, এবারের নির্বাচন অনেকটা ‘লাইনচ্যুত একটি ট্রেনকে’ পুনরায় লাইনে ফিরিয়ে চালু করার মতো।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনজিও ব্যুরো কার্যালয়ে ৮১টি বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত জোট ‘এলায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (এএফইডি)-এর একটি প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাচনী সংস্কার ও বর্তমান ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমি যদি এবারের নির্বাচনকে রূপকভাবে ব্যাখ্যা করি, তাহলে বলব—এটি এমন একটি ট্রেনকে ফের লাইনে আনার প্রচেষ্টা, যা দীর্ঘদিন ধরে লাইনচ্যুত অবস্থায় ছিল। ন্যূনতম মেরামত করে, কিছু যন্ত্রাংশ বদলে অন্তত ট্রেনটিকে সচল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে সেটিকেই নির্বাচন কমিশনের প্রথম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও গভীর সংস্কারের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশনের ‘তৃতীয় নয়ন’। তাই তাদের পর্যবেক্ষণ যেন মানসম্মত ও দায়িত্বশীল হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। “মৌলিক নীতিমালার ব্যত্যয় যেন না ঘটে। নীতির মধ্যে থেকেই পর্যবেক্ষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে,” বলেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও আশ্বাস দেন এই কমিশনার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রহমান। এছাড়া খান ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার রোকসানা খন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্য বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্বীকারের পাশাপাশি ধাপে ধাপে আস্থা পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়। এবারকার নির্বাচন কতটা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলের মূল আলোচ্য বিষয়।
কসমিক ডেস্ক