যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান। শনিবার (১ আগস্ট) পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ বার্তা দেন।
ইরানের এই অবস্থান আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার ওপর তার আস্থা কমে গেছে এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালাতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান-এর সঙ্গে আলাপের সময় আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের যেকোনো নতুন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলায় কোনো আঞ্চলিক দেশ অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধেও ইরান প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে। এদিকে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ দাবি করেছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইসরায়েলের তেল-গ্যাস স্থাপনাও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
অন্যদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে কিছু সরকারি ও বেসামরিক স্থাপনার ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। তিনি বলেন, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ মার্কিন আলোচকরা এখনো ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার অভিযোগ, তেহরান অতীতে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
চলমান এই উত্তেজনার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক