দেশের উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালতে মামলাজট কমানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি ও বিচারক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুসরণ করে উচ্চ আদালতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিচারপতি নিয়োগ এবং নিম্ন আদালতের শূন্যপদ পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্য মাহফুজা হান্নান জানতে চান, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের মামলাজট কমাতে নতুন করে বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ মোট ৫ জন বিচারপতি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করছেন। বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বিবেচনায় সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে বর্তমানে মোট ২ হাজার ৬২০টি বিচারকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৪ জন বিচারক কর্মরত থাকলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ এখনও শূন্য রয়েছে। এসব শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নতুন বিচারক নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৮তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১৫০ জন এবং ২০তম বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২০০ জন সিভিল জজ নিয়োগের জন্য কমিশনের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এ চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আদালতের শূন্যপদ কমবে, বিচারিক কার্যক্রমে গতি আসবে এবং দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক