ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে চারজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমানের সঙ্গে ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে United States Central Command।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল একটি Boeing KC-135 Stratotanker, যা মাঝ আকাশে অন্য যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়।
বিমানে মোট ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন।
এর মধ্যে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্য দুইজনকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি শত্রুপক্ষের হামলায় বিধ্বস্ত হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পেছনে শত্রুপক্ষের গুলি কিংবা নিজেদের বাহিনীর গুলির কোনো ভূমিকা নেই।’
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরাক-জর্ডান সীমান্তবর্তী এলাকার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বিশেষ করে সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত Al-Turaibil শহরের কাছে বৃহস্পতিবার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
দুর্ঘটনার সময় বিমানটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল।
বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মাঝ আকাশে অন্যান্য সামরিক বিমানকে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিল এটি।
এই দুর্ঘটনার সময় আকাশে থাকা আরেকটি সামরিক বিমানকে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এই দুর্ঘটনা ঘিরে বিভিন্ন দাবি-পাল্টা দাবি সামনে এসেছে।
ইরান দাবি করেছে, তাদের মিত্র বাহিনী বিমানটি ভূপাতিত করেছে এবং এতে থাকা সব ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, এটি কোনো সামরিক হামলার ঘটনা নয় এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এই দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় আরেকটি বড় সামরিক ঘটনার খবর সামনে এলো।
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রশাসনের চলমান সামরিক অভিযানের সময় এটি চতুর্থবারের মতো কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই কুয়েতে একটি ঘটনায় মিত্রবাহিনীর ভুল আঘাতে তিনটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী।
তবে সেই ঘটনায় বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্য প্যারাশুট ব্যবহার করে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের দুর্ঘটনা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
কসমিক ডেস্ক