হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও কূটনৈতিক এলাকায় হর্ন বাজানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঘোষিত নীরব এলাকায় আইন অমান্য করে হর্ন ব্যবহার করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, বিমানবন্দর এলাকা ছাড়াও গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এসব এলাকায় যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় হর্ন শব্দ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হবে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর উত্তর ও দক্ষিণে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে। এই পরিধির মধ্যে উত্তরা স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’ পর্যন্ত এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নীরব এলাকা ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সদ্য কার্যকর হওয়া ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
নতুন বিধিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শব্দদূষণের ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আরোপ করতে পারবে। ফলে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অপেক্ষা না করে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘোষিত নীরব এলাকাগুলোতে শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত টহল ও তদারকি চালাবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে হর্ন বাজালে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।
শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ কমিয়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মানসিক চাপ হ্রাস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। রাজধানীবাসীর সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।
ডিএমপি জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শব্দদূষণবিরোধী অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক