পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে একটি কাঁচা বাড়ির ছাদ ধসে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাত জেলায় সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।
প্রাদেশিক জরুরি পরিষেবার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজির তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলেও ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে একাধিক স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক জরুরি পরিষেবা বিভাগ।
ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সরকার পর্যটকদের আপাতত উত্তরাঞ্চলে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানে বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকাগুলোতে এসব দুর্যোগে প্রাণহানি ও ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রেকর্ড পরিমাণ মৌসুমি বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৭৩৯ জনের মৃত্যু হয় এবং দেশটির প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
কসমিক ডেস্ক