উত্তর ইসরায়েলে আবারও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সমন্বিতভাবে এই হামলা চালায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর ইয়ারা ব্যারাকেও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে গোষ্ঠীটি, যদিও স্বাধীনভাবে এই তথ্য যাচাই করা যায়নি।
এছাড়া ইসরায়েলের গালিলি অঞ্চলের বান্না ও দেইর আল-আসাদ এলাকায়ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, হামলার কারণে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, তাদের এই হামলা ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। গোষ্ঠীটির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পর তারা ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করে।
এর আগে থেকেই ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ২ মার্চ থেকে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে বলে জানা যায়। পরপর পাল্টা হামলা ও রকেট নিক্ষেপের ঘটনায় সীমান্ত অঞ্চল কার্যত অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘাত নতুন মাত্রা পাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামরিক পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, এই হামলার পর পাল্টা জবাব আসতে পারে।
সব মিলিয়ে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
কসমিক ডেস্ক