কপোতাক্ষ পাড়ের কবি, মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন আজ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কপোতাক্ষ পাড়ের কবি, মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন আজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 25, 2026 ইং
কপোতাক্ষ পাড়ের কবি, মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মদিন আজ ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলা সাহিত্যের আকাশে যিনি দীপ্ত নক্ষত্রের মতো আজও উজ্জ্বল, সেই মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮২৪ সালের এই দিনে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার কপোতাক্ষ নদীর শান্ত তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত দত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। জন্মের দুই শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সময়ের স্রোত তাঁর নাম মুছে দিতে পারেনি; বরং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বুকে তিনি আজও অমর, চিরসবুজ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার এক সাহসী অগ্রদূত। তিনি ভেঙেছেন প্রচলিত ছন্দের শৃঙ্খল, এনেছেন অমিত্রাক্ষর ছন্দের নতুন দিগন্ত, সনেটের সুষমা আর পাশ্চাত্য সাহিত্যচিন্তার গভীরতা। তাঁর কলমে রচিত ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা মহাকাব্যের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক—যেখানে বীরের পরাজয়েও আছে গৌরব, আর ট্র্যাজেডির মাঝেও আছে মহিমা।

কপোতাক্ষ পাড়েই কেটেছে তাঁর শৈশবের দিন। বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন সাগরদাঁড়ির জমিদার, মা জাহ্নবী দেবীর স্নেহছায়ায় গড়ে ওঠা মধুসূদন শৈশবেই ভাষা ও শিক্ষার প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করেন। সাগরদাঁড়ির পাশের শেখপুরা গ্রামে মৌলভী খন্দকার মখমলের কাছে তিনি শেখেন বাংলা ও ফার্সি ভাষা। পরবর্তীতে কলকাতায় গিয়ে ইংরেজি, ল্যাটিন ও হিব্রু ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। হিন্দু কলেজে অধ্যয়নকালে ‘স্ত্রী শিক্ষা’ বিষয়ে ইংরেজিতে লেখা প্রবন্ধ তাঁকে এনে দেয় স্বর্ণপদক ও বিদ্বৎসমাজের স্বীকৃতি।

১৮৪৩ সালে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনে আসে এক নাটকীয় মোড়। সমাজ ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন পথে যাত্রা শুরু করেন তিনি। বিশপস কলেজে অধ্যয়ন করে গ্রিক ও সংস্কৃত ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। ভাগ্যের সন্ধানে পাড়ি জমান মাদ্রাজে—সেখানে শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে তাঁর সৃষ্টিশীলতা আরও বিস্তৃত হয়। এই সময়েই প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য কাপটিভ লেডি’।

তবে তাঁর প্রকৃত সাহিত্যিক স্বরূপ বিকশিত হয় বাংলা ভাষায় ফিরে এসে। ১৮৫৮ সালে ‘শর্মিষ্ঠা’ নাটকের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘটে। এরপর একে একে ‘পদ্মাবতী’, ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ এবং অমর সৃষ্টি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচনা করে তিনি বাংলা সাহিত্যে স্থায়ীভাবে অধিষ্ঠিত হন মহাকবির আসনে। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতায় তাঁর জীবনাবসান হলেও তাঁর সৃষ্টির মৃত্যু হয়নি।

আজ যশোর শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে সাগরদাঁড়িতে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক ভিটা ‘মধুপল্লী’ নামে পরিচিত। কবি-সাহিত্যিকদের কাছে এটি এক পবিত্র কবিতীর্থ, আর সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে ইতিহাস ও সৌন্দর্যের মিলনস্থল। প্রতি বছর দেড় লক্ষাধিক মানুষ এখানে এসে কবির স্মৃতিচিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধায় নত হন।

তবু এত সম্ভাবনার মাঝেও মধুপল্লী এখনও পুরোপুরি পর্যটকবান্ধব হয়ে উঠতে পারেনি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাব প্রকট। সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ি ও জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মো. হাসানুজ্জামান জানান, সৌন্দর্যবর্ধন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ বছর আনুষ্ঠানিক মেলা না হলেও জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহাকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়—কিন্তু কপোতাক্ষের ঢেউয়ের মতোই মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্য আজও বহমান, আজও প্রেরণার উৎস।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আকিজ সিমেন্ট কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আট শ্রমিক

আকিজ সিমেন্ট কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ আট শ্রমিক