ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান শনিবার (৪ এপ্রিল) তেলের কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি তেল কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। কিছু অসাধু মানুষ মোটরসাইকেল ও গাড়ি ব্যবহার করে একই দিনে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে বাসায় রেখে ড্রামে বা বোতলে ভর্তি করছেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা এতদিন সফট লাইনে ছিলাম। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের সেকশন ২৫ অনুযায়ী কালোবাজারি এবং মজুতদারির বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হবে। প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে এবং কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলেও প্রথমে তাকে গ্রেফতার করতে হবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি বা অন্য দলের নেতাকর্মী এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদেরকে আইন অনুযায়ী সবার আগে আটক করতে হবে। যারা তাদের পক্ষে তদবির করবে, তাকেও সহযোগী হিসেবে গ্রেফতার করা হবে। আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, সরকারের যে কোনো মূল্যে কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
আইনমন্ত্রী পাশাপাশি গণভোট ও জুলাই সনদ সংক্রান্ত বিতর্কের বিষয়ে বলেন, “জুলাই সনদ নিজেই স্বতন্ত্র, কার্যকর এবং সংবিধান অনুযায়ী বাস্তবায়নযোগ্য। গণভোট বাতিল হলেও সনদ বাতিল হবে না। যারা এটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা জনগণকে ভুল ধারণায় ফেলছে।”
এছাড়া কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের নেয়া পদক্ষেপও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মকুফ করা হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে নেক্সট বাজেটে ব্যাপক হারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যেই ৩৮ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে শৈলকুপাসহ দেশের ১১টি স্থানে কৃষক কার্ড ইস্যু করা হবে। তিনি শৈলকুপায় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সফরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, “যেদিন তিনি শৈলকুপা আসবেন, সেদিন স্থানীয়রা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে।”
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্য দেশের জ্বালানি সরবরাহের স্বচ্ছতা, কালোবাজারি রোধ এবং প্রশাসনের তৎপরতা নিশ্চিত করতে বড় হুঁশিয়ারি হিসেবে ধরা হচ্ছে।