নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় কোস্টগার্ডের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ৮ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় জ্বালানি পরিবহনে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে Hatiya Upazila-এর নলচিরা ঘাট সংলগ্ন Meghna River এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটকরা হলেন—মো. মিলন (২২), মো. রিয়াজ (২০), মো. স্বপন (২২) এবং মো. ফয়েল (১৯)। তারা সবাই নলচিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন হাতিয়ার একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে বিদেশি তেলবাহী জাহাজ থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ লিটার পেট্রোল এবং ২ হাজার ১৫ লিটার ডিজেল। এসব জ্বালানির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
অভিযান চলাকালে জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাও জব্দ করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নৌকার মাধ্যমে নদীপথে বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
এ বিষয়ে Bangladesh Coast Guard-এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দকৃত জ্বালানি ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, “জ্বালানি তেল ও আটককৃতদের Hatiya Police Station-এ হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চোরাচালান রোধ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় সমস্যা। এতে একদিকে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হাতিয়ায় এই অভিযান উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানি চোরাচালান রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে এই অবৈধ বাণিজ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক