স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ৭ বছর, কাশ্মীরে রাজনৈতিক সংকট বহাল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ৭ বছর, কাশ্মীরে রাজনৈতিক সংকট বহাল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 5, 2026 ইং
স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ৭ বছর, কাশ্মীরে রাজনৈতিক সংকট বহাল ছবির ক্যাপশন:

ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫-এ অনুচ্ছেদ বাতিলের সাত বছর পার হলেও জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, স্বায়ত্তশাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করে। এরপর ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় এক দশক পর নির্বাচিত সরকার গঠিত হলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ন্যাশনাল কনফারেন্স জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এবং ওমর আবদুল্লাহ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামোয় নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা আগের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত। ফলে নীতি নির্ধারণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিবর্তে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা মোকাবিলাতেই বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ফলে শুধু বিশেষ মর্যাদাই নয়, কাশ্মীরের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনও সংকুচিত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণকে কেন্দ্র সরকার স্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও এটি বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের প্রতি সমর্থনের প্রমাণ নয়; বরং প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি প্রচেষ্টা।

এদিকে ২০২২ সালের ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক দলগুলোর অভিযোগ, নতুন আসন বিন্যাসে জম্মু অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে কাশ্মীর উপত্যকার রাজনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমেছে।

মানবাধিকার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন বিশ্লেষক। তাদের মতে, গণবিক্ষোভ, রাজনৈতিক সমাবেশ এবং সংবেদনশীল বিষয়ে প্রকাশ্য আলোচনা আগের তুলনায় অনেক সীমিত হয়েছে। ইউএপিএসহ বিভিন্ন আইনের প্রয়োগ এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রশীদের কারাবন্দি থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এই পরিবর্তনকে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করছে। দলটির দাবি, বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর বিচ্ছিন্নতাবাদ দুর্বল হয়েছে, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়েছে এবং সফল নির্বাচন গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রমাণ বহন করে।

ফলে সাত বছর পরও কাশ্মীরে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন—এই চারটি বিষয়কে ঘিরে বিতর্ক ও ভিন্নমত সমানভাবে বিদ্যমান রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বাজেট অধিবেশনে স্পিকারের রসিকতা, হাসিতে মুখর সংসদ

বাজেট অধিবেশনে স্পিকারের রসিকতা, হাসিতে মুখর সংসদ