মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদে মানব অভিযানের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করেছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ মার্চ শুরু হবে ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন। এই অভিযান চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে এবং দীর্ঘ বিরতির পর প্রথমবারের মতো কোনো মানববাহী মহাকাশযান চাঁদকে ঘিরে উড়ে যাবে।
শুক্রবার নাসার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লোরি গ্লেজ জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের সঠিক তারিখ অনেকটাই নির্ভর করছে প্যাড প্রস্তুতি, ফ্লাইটের কারিগরি পর্যালোচনা এবং মহড়ার সফল সমাপ্তির ওপর। তিনি বলেছেন, “আমাদের এই সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। তা না হলে নির্ধারিত তারিখে উৎক্ষেপণ সম্ভব হবে না। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে আমরা ৬ মার্চের জন্য প্রস্তুত।”
উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি হিসেবে বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরালে নাসার বিশাল এসএলএস রকেটের মহড়া সম্পন্ন হয়েছে। মহড়ার সময় রকেটের জ্বালানি ট্যাঙ্ক পূর্ণ করা হয় এবং সব কারিগরি পরীক্ষা চালিয়ে বাস্তব উৎক্ষেপণের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। মহড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী শেষ হয় কাউন্টডাউন টি-২৯ সেকেন্ডে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে আরেকটি মহড়ায় কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়, যার মধ্যে ছিল জ্বালানি ট্যাঙ্কে সমস্যা। সেই ত্রুটির কারণে চলতি মাসে উৎক্ষেপণ সম্ভব হয়নি। তবে ত্রুটিগুলো সমাধান করে মার্চ মাসকেই এখন লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে নাসা।
এই ঐতিহাসিক মিশনে অংশ নিচ্ছেন মোট চারজন মহাকাশচারী। তাদের মধ্যে তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং একজন কানাডার। যদিও এই দল সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবে না, তারা চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবে। এই অভিযান ভবিষ্যতে মানবজাতিকে পুনরায় চাঁদে পদার্পণের পথ সুগম করবে।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি স্থাপন এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এই অভিযান বিজ্ঞানী ও গবেষকদের চাঁদের কক্ষপথে প্রযুক্তি পরীক্ষা এবং মহাকাশযানের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিশনের সফল সমাপ্তির পর মহাকাশচারীরা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। গবেষকরা আশা করছেন, আর্টেমিস-২ মিশন মানবজাতির জন্য চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের পথ সুগম করবে এবং নাসার ভবিষ্যৎ প্রকল্প যেমন আর্টেমিস-৩ মিশনকে সহায়তা করবে, যেখানে মহাকাশচারীরা সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করবেন।
মিশনের এই প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি মহাকাশ গবেষণা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতির লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে।
কসমিক ডেস্ক