আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও বন্ধ হয়ে থাকা খালগুলো দ্রুত খনন ও পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে বর্ষায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা যায়।
সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অবস্থিত প্যারিস খাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। পরিদর্শনে খালের বর্তমান অবস্থা, পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পরিকল্পিতভাবে খাল খনন ও পুনঃসংস্কারের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খালের নাব্যতা রক্ষা করা গেলে শুধু জলাবদ্ধতা কমবে না, বরং ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। কারণ জমে থাকা পানি মশার প্রজননের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত।
তিনি আরও জানান, খালের দুই পাড়ে পর্যায়ক্রমে হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একদিকে যেমন নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরি হবে, অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নগর ব্যবস্থাপনায় খালকে শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা খালগুলো উদ্ধারে প্রয়োজন হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন প্রশাসক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।
সাধারণ জনগণ ও গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিক সম্পৃক্ততা উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করে। নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে খাল রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হবে বলেও মত দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই মিরপুর এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খালগুলো যথাযথভাবে পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় গভীরতা বজায় রাখা সম্ভব হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খালও পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে অতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।
কসমিক ডেস্ক