প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করেছে ইরান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করেছে ইরান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 12, 2026 ইং
প্রথম দেশ হিসেবে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করেছে ইরান ছবির ক্যাপশন:
ad728

বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে দেশটি স্টারলিংকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, যা সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী ও নাগরিকদের জন্য বিকল্প ইন্টারনেট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভেতরে প্রায় ১০ হাজার স্টারলিংক ইউনিট সক্রিয় থাকার তথ্য থাকলেও দেশটির সাম্প্রতিক ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

ইরান ওয়্যার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ব্যাঘাত ৮০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়, ফলে বহু এলাকায় সংযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে দেশটিতে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্টারলিংক রিসিভারগুলো স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য জিপিএস সিগন্যালের ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতের পর থেকেই ইরান জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে—কোথাও আংশিক সংযোগ, কোথাও প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা গেছে।

মিয়ান গ্রুপের গবেষক আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, গত দুই দশক ধরে তিনি ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিয়ে গবেষণা করছেন, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা আগে দেখেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারলিংকের ডেটা প্যাকেট হঠাৎ কমে যাওয়ার তথ্য মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলেছে, যা স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়।

ইন্টারনেট শাটডাউন বিষয়ে গবেষণা করা বিশ্লেষক সাইমন মিগলিয়ানো বলেন, ইরানের চলমান দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ একটি কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ। তার মতে, ভিন্নমত দমন করাই এই ‘ডিজিটাল কিল সুইচ’ কৌশলের মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানের অর্থনীতিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ৬০ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশটির সামগ্রিক ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক সময়ের মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্টারলিংক অচল করার মাধ্যমে ইরান ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট স্বাধীনতা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করল অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করল অস্ট্রেলিয়া