জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যদি প্রশাসনের আচরণ একপাক্ষিক হয়, তাহলে এমন নির্বাচনের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি মনে করেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ছাড়া গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে ‘আজাদির যাত্রা’র প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে কেবল বিরোধী দল নয়, সব রাজনৈতিক শক্তিকেই প্রশাসনের একতরফা আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি যদি সত্যিই গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে, তাহলে প্রশাসনের নগ্ন ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের বিরুদ্ধেও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন আবারও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তার ভাষায়, সরকারি কর্মকর্তারা অতীতে যেমন আচরণ করতেন, ঠিক তেমনভাবেই আবারও দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের স্বাগত জানাতে ছুটে গেছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা চাই না কেউ গোলামির রাজনীতির দিকে ফিরে যাক। জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করা হবে না। তিনি আরও বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সরকার তার হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পারেনি। এ ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি জানান, আজ থেকে হাদির আজাদির লড়াই নতুন করে শুরু করা হলো। এগারো দলীয় জোট এখন থেকে ‘আজাদির জোট’ হিসেবে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য কোনো ধরনের গোলামি রাজনীতি নয়, বরং স্বাধীন ও ন্যায্য রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাহবাগ ও রমনা এলাকাকে ‘আজাদির এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এসব এলাকায় কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। আজাদির লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন বলেন, তাদের প্রচারণায় শুধুমাত্র ‘আজাদির’ বার্তাই থাকবে। অন্য কোনো প্রতীক বা বিষয় সামনে আনা হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখানে শাপলা কলি বা অন্য কোনো আলোচনার বিষয় থাকবে না।
এনসিপি নেতাদের এসব বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, এই বক্তব্য তা আরও জোরালো করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।