সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় এক সময় স্বচ্ছ পানি ও সাদা পাথরের সৌন্দর্যে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ভিড় করলেও অবৈধ পাথর উত্তোলন ও লুটপাটের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সরকারি সফরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক বহিষ্কৃত সভাপতি ও সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাহাব উদ্দিনকে দেখা যায়, যিনি বহুল আলোচিত সাদাপাথর লুট মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে পরিচিত। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর ও আশপাশের এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল, যার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ করেছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা মনে করেন, এতে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও উৎসাহিত হতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার দাবি, ওই ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল নদীভাঙন ও উন্নয়নমূলক আলোচনা ঘিরে, যা সম্পূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট।
পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলেছেন, সাদাপাথর ও আশপাশের নদী অববাহিকায় অবৈধ পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। তারা সরকারের প্রতি কঠোর নজরদারি ও শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরের পরিবেশ, পর্যটন এবং স্থানীয় রাজনীতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এখনো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা মতপার্থক্য রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক