নজিরবিহীন দীর্ঘস্থায়ী শীত ও ঘন কুয়াশার দাপটে কাঁপছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, কয়েক দিন ধরেই দেশের আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকায় দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম অনুভূত হচ্ছে। আগামী দুদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও শীতের অনুভূতি কমবে না। বরং ৫ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা আরও কমে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মাসজুড়েই শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়। গত শুক্রবার দৃশ্যমানতা কম থাকায় নয়টি ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, ভারতের কলকাতা ও থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির পর বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘন কুয়াশার সময় ফ্লাইট ডাইভার্টের অন্যতম কারণ শাহজালাল বিমানবন্দরে ক্যাটাগরি-২ ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস) না থাকা। এই প্রযুক্তি থাকলে কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও নিরাপদে বিমান অবতরণ সম্ভব হতো। এর অভাবে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলোকেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢেকে থাকছে চারপাশ। কোথাও কোথাও দুপুরের দিকে অল্প সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও তাপ কম থাকায় শীতের তীব্রতা কমছে না। কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ছে, অনেক জায়গায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। রংপুর, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও নীলফামারীতে টানা কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির। শ্রমজীবী মানুষ কাজের জন্য ঘর থেকে বের হতে পারছেন না, ফলে আয় কমে পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়ছেন অনেকে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ঠান্ডাজনিত রোগে অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শীতের এই প্রকোপে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছেন ছিন্নমূল মানুষ। ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো মানুষেরা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, ঘন কুয়াশার কারণে আগামী কয়েক দিন বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও অসহায় মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা বাড়ানোর দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
কসমিক ডেস্ক