জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থা বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক করার দাবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থা বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক করার দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 4, 2026 ইং
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থা বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক করার দাবি ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার দেশের নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। বর্তমান আইন অনুসারে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব মূলত পরিবারের ওপর নির্ভরশীল, আর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর এটি বাধ্যতামূলক নয়। এর ফলে বহু নাগরিক কার্যত রাষ্ট্রের হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছেন, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক অদৃশ্যতার পাশাপাশি শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বিএমএ ভবনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক সাংবাদিক কর্মশালায় এই বিষয়গুলো আলোচিত হয়। কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত ৩২ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় উঠে আসে যে, দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার মাত্র ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন হাজারো মানুষ জন্মগ্রহণ বা মৃত্যুবরণ করলেও তাদের প্রায় অর্ধেকই রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। এই তথ্যের অভাবে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতি প্রণয়নও ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকদের আইনি পরিচয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নিবন্ধনবিহীন নাগরিকরা বাস্তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে পড়েন। দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের জন্যও একই ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা জরুরি।

ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অর্জনে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করা এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।” জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস আরও বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রদান জাতিসংঘের আঞ্চলিক সংস্থা ইউএনএসকাপ-এর শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি এসডিজি ১৬.৯, সবার জন্য বৈধ পরিচয়পত্র, অর্জনে সহায়ক হবে।”

দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, “জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কার যেন জাতীয় অগ্রাধিকার পায়, সেজন্য নিবন্ধনের বহুমুখী প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।”

কর্মশালায় প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের, কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার এবং কোঅর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিনও বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা ও বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞরা সবাই একমত যে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে শিশুর জন্মের পর সঙ্গে সঙ্গে জন্মনিবন্ধন হবে এবং মৃত্যুর তথ্যও দ্রুত সঠিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ কেবল নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে না, বরং উন্নয়ন নীতি এবং জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনকে যুগোপযোগী করার মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং প্রতিটি নাগরিকের জন্য বৈধ পরিচয় নিশ্চিত হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
যুদ্ধের প্রভাব নাকি সিন্ডিকেট—রডের দাম বাড়া নিয়ে বিতর্ক

যুদ্ধের প্রভাব নাকি সিন্ডিকেট—রডের দাম বাড়া নিয়ে বিতর্ক