ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিধায়ক স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ। এই অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান চালায় সিআইডির একটি দল। একই দিনে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়েও তল্লাশি পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে এ বিতর্কের সূত্রপাত। ওই চিঠিতে প্রায় ৮০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেন যে তারা ওই নথিতে স্বাক্ষর করেননি। এরপর বিষয়টি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি কর্মকর্তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তদন্তকারীরা তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থান করছেন জেনেও তাদের অনুপস্থিতিতে অভিযান চালানো হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে দলের ভেতরেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে প্রশাসনিক এক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ ও জনপ্রিয় অভিনেতা দেবের অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার সমর্থন ও ভালোবাসা অটুট রয়েছে এবং তিনি দলের সঙ্গেই আছেন।
অন্যদিকে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ও বিধাননগর পুরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় দলটির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে একাধিক চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মুখোমুখি।
কসমিক ডেস্ক