বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন পরিবেশগত ও মানবসৃষ্ট কারণে বিশ্বের বড় বড় শহরগুলো প্রায়ই দূষণের উচ্চমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছে। তবে কয়েক মাস ধরে দূষণের চাপ থাকলেও বর্তমানে কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে রাজধানী ঢাকা।
সোমবার (১ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকা ১৯তম অবস্থানে রয়েছে। এ সময় শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) বা বায়ুমানের স্কোর ছিল ৮৪, যা ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ুমান আগের কয়েক মাসের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে দিনের বিভিন্ন সময়ে আবহাওয়া, যানবাহনের চাপ, নির্মাণকাজ এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণে বায়ুমানের এই সূচক ওঠানামা করতে পারে।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছে কঙ্গোর রাজধানী কিনসাসা। শহরটির বায়ুমানের স্কোর ২৩৮, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। শহরটির স্কোর ১৬৯, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কোর ১৫১, যা একইভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
এ ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ১৪৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং পাকিস্তানের লাহোর ১৩৭ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের আরেক শহর করাচির বায়ুমানের স্কোর ছিল ৮৪, যা ঢাকার সমপর্যায়ের এবং তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগের দিন রবিবার একই সময়ে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ১০৭। তারও একদিন আগে ছিল ৮২। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বায়ুমান ওঠানামা করলেও বর্তমানে তা তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বায়ুর মানকে ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান করলে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনা, নির্মাণকাজের ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে ঢাকার বায়ুমান আরও উন্নত করা সম্ভব।
কসমিক ডেস্ক