ঝিনাইদহে অভিযান চললেও থামছে না মাদক বাণিজ্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঝিনাইদহে অভিযান চললেও থামছে না মাদক বাণিজ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 4, 2026 ইং
ঝিনাইদহে অভিযান চললেও থামছে না মাদক বাণিজ্য ছবির ক্যাপশন:

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহে মাদক কারবার দিন দিন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও বাস্তবে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকের অবাধ বেচাকেনা বন্ধ হচ্ছে না। বরং শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই ছোট ছোট বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজার এলাকায় একটি সক্রিয় মাদক চক্র কাজ করছে। বিশেষ করে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন অংশ দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশ করছে। সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব মাদক প্রথমে গ্রামাঞ্চলের নির্দিষ্ট স্থানে মজুদ রাখা হয়। পরে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে তা শহর ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই চক্র কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, স্থানীয়দের মধ্যে এমন ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতা বেড়েছে। জেলা শহরের কালিকাপুর, চাকলাপাড়া, হামদহ, আরাপপুর, পবহাটি এবং সদর উপজেলার সাধুহাটি, হাটগোপালপুর, খাজুরা এলাকায় নিয়মিত মাদক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে কালীগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর, চাচড়া, শিবনগর, আড়পাড়া, ঢাকালে পাড়া, বলিদাপাড়া, সিংঙ্গী, ফয়লা, হেলাই মাস্টারপাড়া, পাইকপাড়া, চাপালী, আনন্দবাগ ও খয়েরতলা এলাকায় মাদক বেচাকেনা চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শৈলকুপা উপজেলার কবিরপুর, শেখপাড়া, ফুলহরি, কাচেরকোল, ভাটইবাজারসহ আশপাশের গ্রামগুলোতেও দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। এসব মাদক মহেশপুর সীমান্ত থেকে সড়কপথে বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহে জেলায় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের সরবরাহ কয়েক গুণ বেড়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। আগে যেসব এলাকায় মাদক লেনদেন তুলনামূলক কম ছিল, সেসব স্থানেও এখন প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট কিছু চায়ের দোকান, পরিত্যক্ত ভবন, খেলার মাঠ এবং গ্রামের নদীর চর এলাকায় মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ে। অনেকেই বিষয়টি জানলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না।

অভিযোগ উঠেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহে মাদক কারবার আরও সক্রিয় হয়েছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করছেন।

স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের আটক করলেও বড় কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে থানা পুলিশকে প্রভাবিত করার কথাও শোনা যাচ্ছে।

জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, আগে গোপনে মাদক বিক্রি হলেও এখন তা প্রকাশ্যেই চলছে। সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট দোকান ও বাড়িতে মাদকের আসর বসছে। এতে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ সহজেই মাদক সংগ্রহ করছে এবং আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তিনি মনে করেন, কেবল অভিযান নয়—সামাজিক প্রতিরোধ, পরিবারভিত্তিক সচেতনতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. হাশেম আলী জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় চালান জব্দ করা হয়েছে এবং একাধিক কারবারিকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ রোধে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চিহ্নিত স্পটগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন রয়ে গেছে—অভিযান চললেও কেন মাদকের বিস্তার কমছে না? সচেতন মহলের মতে, কার্যকর সমন্বয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে ঝিনাইদহে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্বাচনের হলফনামায় ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন বিএন

নির্বাচনের হলফনামায় ৫৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন বিএন