কোরবানির পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে এখন উদ্বৃত্ত পশু ও মাংস বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এতে ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে খামারির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, পশুপালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ব্যয় হয় খাদ্য খাতে। খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে পশুর দামও বৃদ্ধি পায়। এ কারণে মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৩৫ জন ক্ষুদ্র খামারিকে ঘাস উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, উন্নত ঘাস ব্যবহারের মাধ্যমে পশুর খাদ্য ব্যয় কমবে এবং দুধ উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি খামারিদের ফিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘাসভিত্তিক পশুপালনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে এবং বাজারে মাংসের দামও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
তিনি বলেন, পশু মোটাতাজাকরণে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাংসের দাম কমছে না কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে গরুসহ অন্যান্য পশুর মাংসের দামও কমে আসবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
বিদেশ থেকে পশু বা মাংস আমদানির কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। বরং সীমান্তপথে অবৈধ পশু প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন এবং কোরবানির পশুর বাজার দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে পশু উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হচ্ছে। এই উদ্বৃত্ত উৎপাদন কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মাংস রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দেশে ১৩টি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে মাংস রপ্তানি শুরু করেছে। সরকার বড় খামারি ও উদ্যোক্তাদের এ খাতে উৎসাহ ও সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র খামারিদের উদ্বৃত্ত পশু বিক্রিতে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন।
সব মিলিয়ে সরকারের লক্ষ্য হলো—দেশীয় পশু উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করা, খাদ্য খরচ কমানো এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশকে মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।
কসমিক ডেস্ক