গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় এক নারীর উপর সংঘবদ্ধ নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটে উপজেলার গাছাবাড়ী গ্রামের মণ্ডলপাড়া এলাকার বুরুঙ্গী বিলের একটি নির্জন স্থানে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনি রাতে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে উঠানে এসে কথা বলা শুরু করেন। ঠিক তখনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন যুবক তাকে লক্ষ্য করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই যুবকরা হঠাৎ করে তাকে জোরপূর্বক ধরে নির্জন বুরুঙ্গী বিল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে নির্যাতন করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থও ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পারে এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—লাবু মিয়া (২৫), নিরব মিয়া (২০) এবং বিপ্লব ওরফে ডিপজল (২৫)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন একই এলাকার এবং একজন পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ঘটনার পর সাঘাটা থানার পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়। সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ভুক্তভোগীর অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ফরেনসিক ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, নির্জন এলাকায় এমন ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। তারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী নারীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত রয়েছে প্রশাসন।
কসমিক ডেস্ক