চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ঐতিহ্যবাহী পাখিপল্লী একসময় ছিল ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ। হাজারো পাখির কলকাকলি আর মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমাতেন স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা। তবে বর্তমানে সংস্কারের অভাবে এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রটি হারাতে বসেছে তার জৌলুস।
পাখিপল্লীর প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পাখিদের অবাধ বিচরণ কাছ থেকে দেখার জন্য নির্মিত কাঠের সিঁড়ি ও পর্যবেক্ষণ মাচা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব কাঠামো এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সিঁড়ির বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের জন্য সেখানে ওঠানামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় ছুটির দিনগুলোতে পাখিপল্লীতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে ভাঙা অবকাঠামো এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে পর্যটকদের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দূর থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাখিপল্লী ঘুরতে এলেও ভাঙা সিঁড়ি দেখে হতাশ হয়েছেন। তার মতে, এ অবস্থায় উপরের প্ল্যাটফর্মে ওঠা বিপজ্জনক এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় স্থান দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পাখিপল্লীর বর্তমান অবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ভ্রমণপ্রেমী ও সচেতন নাগরিক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন। তাদের মতে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা হলে পাখিপল্লী আবারও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নাচোলের এই পাখিপল্লী শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এলাকার পরিচিতি ও গৌরবেরও অংশ। তাই অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান জরুরি। তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পাখিপল্লীর হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে কাঠের সিঁড়ি ও মাচাগুলো সংস্কারের জন্য দ্রুত বাজেট বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে পাখিপল্লী আবারও তার আগের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে এবং দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে।
ফারুক হোসেন ডন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি