মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়নে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের প্রধান কেন্দ্র ছিল রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং এর আশপাশের এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও ভিজিএফের চাল বণ্টন নিয়ে দলের ভেতরে মনমালিন্য চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সুবিধাভোগীরা বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল নিজেদের সমর্থকদের মধ্যে ভাগ করে দিচ্ছেন। এর প্রতিবাদ জানাতে বিএনপির স্থানীয় নেতারা ইউনিয়ন কাউন্সিলে একত্রিত হন।
সকালে ১০টার দিকে গাংনী উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু এবং তার সমর্থকরা লাঠি নিয়ে কড়ইগাছি মোড়ে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারগিদুল ইসলামের সমর্থকরা ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে লাঠি নিয়ে অবস্থান গ্রহণ করেন। এর ফলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা সংঘর্ষের রূপ নেয়।
ঘটনার সময় আহত হন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলফাজ উদ্দিন কালু, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন কালু, স্থানীয় নেতা খাইরুল ইসলাম ও রাসেল আহমেদ। তাদের সবাইকে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের সূত্র জানায়, তাদের অবস্থার অবনতি নেই এবং চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই সংঘর্ষ মূলত দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ভিজিএফ সুবিধার বণ্টনকে কেন্দ্র করে হয়েছে। বিএনপির একাংশ দাবি করছে, সারগিদুল ইসলাম অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন, যা সংঘর্ষের পেছনের মূল কারণ।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাশ জানান, "বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকা শান্তিপূর্ণ রয়েছে।" এছাড়া সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ ও সুবিধা বণ্টনের অস্পষ্টতা এমন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নয়তো এই ধরনের সংঘর্ষ ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।
ঘটনার পর উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা শান্তি বজায় রাখার জন্য আলোচনা শুরু করেছেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, নেতৃবৃন্দ দ্রুত সমাধান বের করবেন এবং গরীবদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ সুবিধা সঠিকভাবে বিতরণ হবে।
এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে, এবং পুলিশ ও সেনা উপস্থিতিতে এলাকা শান্ত রয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।
কসমিক ডেস্ক