অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডা. শফিকুর রহমান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডা. শফিকুর রহমান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 23, 2026 ইং
অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডা. শফিকুর রহমান ছবির ক্যাপশন:
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে ডা. শফিকুর রহমান-এর এক বক্তব্যকে ঘিরে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এই রাজনীতিক অভিযোগ করেছেন যে, সরকার জনগণের সঙ্গে ‘ধোঁকাবাজি’ করছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ঈদযাত্রার সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং সরকারের ঘোষণার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তার ভাষায়, লাখ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছে—তাদের প্রত্যেকের কাছে কীভাবে ফেরত অর্থ পৌঁছানো হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তিনি এই বিষয়টিকে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঈদের সময় যাত্রীরা টিকিট কিনতে গিয়ে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির সম্মুখীন হয়েছেন। এতে করে ঈদের আনন্দ অনেকাংশেই ম্লান হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মানুষের পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার যে প্রত্যাশা থাকে, তা এসব সমস্যার কারণে ব্যাহত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর দেশকে সচল রাখার স্বার্থে অনেক বিষয় মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না ফিরে আসে, তাহলে জনগণের প্রতিক্রিয়া কঠোর হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, জনগণ কোনো অন্যায়কে দীর্ঘদিন মেনে নেবে না।

তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। তিনি বলেন, সরকার যদি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেয় যে দেশে আর চাঁদাবাজি ও জুলুম চলবে না এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে বিরোধী পক্ষ থেকেও ইতিবাচক পদক্ষেপে সহযোগিতা করা হবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁনসহ আরও অনেকে। তারা বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়ন, সংগঠনের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। প্রায় চার হাজারের মতো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। ঈদের ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকায় ফিরে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাকে স্বাগত জানাতে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

নিজ এলাকায় প্রবেশের আগে ডা. শফিকুর রহমান গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন, যা তার ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

সব মিলিয়ে, এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সরকারের কার্যক্রম, বিশেষ করে জনসেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ

বিএনপির সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ