পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি (থ্রেট) পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি ঈদকে ঘিরে নেওয়া সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় র্যাবের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
র্যাব ডিজি বলেন, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র্যাব ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঈদ জামাতস্থলগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল চেকপোস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট থ্রেট না থাকলেও র্যাবের নিজস্ব মান অনুযায়ী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছে। ঈদের সময় জনসমাগম বাড়লেও রাজধানীতে জনসংখ্যা কিছুটা কমে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে—এ বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র্যাব প্রধান বলেন, রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত চৌকি বসানো হয়েছে। পাশাপাশি সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যায়।
ঈদের সময় কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। র্যাব ডিজি বলেন, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জাল টাকা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা জাল টাকা তৈরি বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যাতে কোনোভাবেই জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নেওয়া না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। যানবাহন চলাচলে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে বা জোরাজুরি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে র্যাবের সাইবার উইং সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি। ঈদকে কেন্দ্র করে কেউ যেন অনলাইনে উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট না দিতে পারে, সেজন্য সার্বক্ষণিক মনিটরিং চালানো হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে র্যাবের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
র্যাব ডিজি শেষ পর্যন্ত বলেন, দেশের জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে র্যাব সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।
কসমিক ডেস্ক