কাবার চাবি কেন আজও বনু শাইবার কাছেই? জানুন ইতিহাস The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কাবার চাবি কেন আজও বনু শাইবার কাছেই? জানুন ইতিহাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 26, 2026 ইং
কাবার চাবি কেন আজও বনু শাইবার কাছেই? জানুন ইতিহাস ছবির ক্যাপশন:

নবীযুগে যিনি পবিত্র কাবার চাবি সংরক্ষণ করতেন

ইসলামের ইতিহাসে সাহাবি হজরত উসমান ইবনে তালহা (রা.) আমানতদারিতা, সততা ও মহান চরিত্রের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। মক্কার সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের বনু আবদিদ দার গোত্রে জন্ম নেওয়া এই সাহাবির পরিবারের ওপর বংশপরম্পরায় ন্যস্ত ছিল পবিত্র কাবা শরিফের চাবি সংরক্ষণ ও এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব। আরব সমাজে এটি ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব।

মহানবী (সা.) ও কাবার চাবির ঘটনা

মক্কা জীবনের একদিন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নিয়ে মসজিদুল হারামে অবস্থানকালে কাবা শরিফের ভেতরে প্রবেশ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সে সময় উসমান ইবনে তালহা (রা.) তখনও ইসলাম গ্রহণ করেননি এবং কাবার চাবি তাঁর কাছেই ছিল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তখন মহানবী (সা.) শান্তভাবে বলেন, "একদিন তুমি এই চাবি আমার হাতে দেখতে পাবে।"

উসমান ইবনে তালহা বিস্মিত হয়ে জানতে চান, "তাহলে কি সেদিন কুরাইশরা অপমানিত হবে?" জবাবে মহানবী (সা.) বলেন, "না, বরং সেদিন কুরাইশরা সম্মানিত হবে।"

মক্কা বিজয়ে পূরণ হয় ভবিষ্যদ্বাণী

হিজরতের প্রায় আট বছর পর ৮ম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে রূপ নেয়। তখন পুরো মক্কা মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবার চাবি উসমান ইবনে তালহার কাছ থেকে গ্রহণ করেন এবং কাবার ভেতরে প্রবেশ করেন। অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার হয়তো কাবার চাবির দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়া হবে। হজরত আব্বাস (রা.) ও হজরত আলী (রা.)-এর নামও আলোচনায় এসেছিল।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে মহানবী (সা.) কাবার চাবি আবার উসমান ইবনে তালহা (রা.)-এর হাতেই ফিরিয়ে দেন। এরপর তিনি ঘোষণা করেন,

"হে বনু তালহা! কিয়ামত পর্যন্ত এই চাবি তোমাদের কাছেই থাকবে।"

এই ঘোষণা ইসলামের ইতিহাসে আমানত রক্ষা ও ন্যায়বিচারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

সততা ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত

ইসলাম গ্রহণের আগেও উসমান ইবনে তালহা (রা.) তাঁর সততা ও মানবিকতার জন্য পরিচিত ছিলেন। হজরত উম্মে সালামা (রা.) যখন একা শিশুপুত্রকে নিয়ে মদিনায় হিজরত করছিলেন, তখন তিনি মুসলিম না হয়েও দীর্ঘ পথ নিরাপদে তাঁকে পৌঁছে দেন। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই একজন অসহায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

ইসলামের সেবায় নিবেদিত জীবন

পরবর্তীতে হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) ও আমর ইবনে আস (রা.)-এর সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন উসমান ইবনে তালহা (রা.)। এরপর তিনি মদিনায় হিজরত করে মহানবী (সা.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের একজন হয়ে ওঠেন।

জীবনের বাকি সময় তিনি কাবা শরিফের খিদমত, আমানত রক্ষা এবং ইসলামের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। তাঁর বর্ণিত একাধিক হাদিস নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থে সংরক্ষিত হয়েছে।

আজও বহমান সেই ঐতিহ্য

মহানবী (সা.)-এর ঘোষণার ধারাবাহিকতায় আজও কাবা শরিফের চাবি উসমান ইবনে তালহা (রা.)-এর বংশধরদের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে। কাবা শরিফের দরজা খোলার ঐতিহ্য এখনও তাঁদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, যা প্রায় দেড় হাজার বছরের একটি ঐতিহাসিক আমানতের ধারাবাহিকতা বহন করছে।

সাহাবি উসমান ইবনে তালহা (রা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত সম্মান বংশ-মর্যাদায় নয়; বরং সত্য গ্রহণ, আমানত রক্ষা, সততা এবং ন্যায়পরায়ণতার মধ্যেই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নিহিত।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে গরমের তী

ঢাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে গরমের তী