মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ দলীয় জোটের শরিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় হাসানুল হক ইনুকে হাজতখানা থেকে আদালতের এজলাসকক্ষে আনা হয় এবং ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত রাখা হয়। রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় থাকা ইনুকে হাসতে দেখা যায়। মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, মামলার আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগে ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নসংক্রান্ত তিন নম্বর অভিযোগে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগসংক্রান্ত ছয় নম্বর অভিযোগে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত সাত নম্বর অভিযোগেও এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ট্রাইব্যুনাল এক, দুই, চার, পাঁচ ও আট নম্বর অভিযোগে হাসানুল হক ইনুকে খালাস দেন। তিনটি অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের সাজা ঘোষণা করা হলেও আদালত নির্দেশ দেন, সব দণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে। ফলে কার্যত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এর আগে গত ২২ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২৫ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৩৯ পৃষ্ঠার ওই অভিযোগপত্রের সঙ্গে এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার বিভিন্ন নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি তদন্তে সংগৃহীত তিনটি অডিও এবং ছয়টি ভিডিও ডকুমেন্টও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এই মামলায় হাসানুল হক ইনুই একমাত্র আসামি ছিলেন। অভিযোগপত্রে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের বিএনপি, জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, ১৪ দলীয় জোট সরকারের অংশীদার হিসেবে জাসদের সভাপতি ও ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাস্তবায়নে নির্দেশনা, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলন দমনের নির্দেশনা দেওয়ার পর ছয়জন নিহত হওয়ার অভিযোগও মামলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং অন্যান্য অভিযোগে খালাস প্রদান করেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হলো।
কসমিক ডেস্ক