২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আসরে আক্রমণভাগের তারকাদের পাশাপাশি আলো ছড়াচ্ছেন গোলরক্ষকেরাও। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ ও ক্লিন শিটে নতুন রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপকে অনেকেই ইতোমধ্যে ‘গোলকিপারদের বিশ্বকাপ’ বলছেন। সেই তালিকায় এবার সবচেয়ে বড় কীর্তি গড়লেন স্পেনের নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক উনাই সিমন।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ৩-০ গোলের জয়ে কোনো গোল হজম করেননি সিমন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সর্বোচ্চ সময় ক্লিন শিট ধরে রাখার নতুন রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে বিশ্বকাপে টানা ৫১৯ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক। এর ফলে ভেঙে গেছে ইতালির কিংবদন্তি ওয়াল্টার জেঙ্গার ৩৬ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা রেকর্ড। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে জেঙ্গা টানা ৫১৭ মিনিট গোল না খেয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। এতদিন সেটিই ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো গোলরক্ষকের দীর্ঘতম ক্লিন শিটের কীর্তি।
এই তালিকায় এখন তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার শিলটন, যিনি বিশ্বকাপে টানা ৫০০ মিনিট কোনো গোল হজম করেননি।
উনাই সিমনের এই রেকর্ডযাত্রার শুরু ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে। জাপানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৫১তম মিনিটে আও তানাকার গোলে শেষবারের মতো পরাস্ত হয়েছিলেন তিনি। এরপর সেই ম্যাচের বাকি সময়, মরক্কোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর পুরো ১২০ মিনিট এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পুরো ম্যাচ মিলিয়ে টানা ৫১৯ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রেখেছেন।
শুধু বিশ্বরেকর্ডই নয়, স্পেনের ফুটবল ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছেন সিমন। এতদিন স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ৪৭৭ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি ইকার কাসিয়াস-এর। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপ মিলিয়ে গড়া সেই কীর্তিও এখন ইতিহাস।
স্পেনের আক্রমণভাগ এই বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে দারুণ ফুটবল উপহার দিলেও দলের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ। সেই রক্ষণের শেষ প্রহরী হিসেবে উনাই সিমন বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার আত্মবিশ্বাসী গোলকিপিং, দুর্দান্ত সেভ এবং ধারাবাহিক ক্লিন শিট স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে স্পেনের ওপর প্রত্যাশা। আর সেই প্রত্যাশার বড় অংশই এখন নির্ভর করছে উনাই সিমনের নিরাপদ হাতে। যদি তিনি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার এই রেকর্ড আরও দীর্ঘ হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক